সিলেট ভ্রমনের বিস্তারিত
আম্বরখানা বাস স্ট্যান্ডে নেমেই আমরা ২০০০ টাকা দিয়ে সারাদিনের জন্য সিএনজি রিজার্ভ করেছিলাম। সিলেট শহর থেকে সি এনজি যোগে রাতারগুল যেতে সময় লাগে প্রায় দেড় ঘন্টা ।সিলেট শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে গোয়াইনঘাটের ফতেহপুর ইউনিয়নে এই বন অবস্থিত। রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট বাংলাদেশের একমাত্র জলাবন এবং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। এই বনের আয়তন ৩,৩২৫.৬১ একর, আর এর মধ্যে ৫০৪ একর বনকে ১৯৭৩ সালে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
বনে ঘোরার একমাত্র মাধ্যম ডিঙ্গি নৌকা। ডিঙিতে চড়ে বনের ভিতর ঘুরতে ঘুরতে দেখা যাবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এ বনটি মূলত সাপের জন্য বিখ্যাত। ডিঙ্গিতে ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎই চোখে পরে যেতে পারে গাছে পেঁচিয়ে থাকা কোনো সাপ। আবার কপাল ভালো থাকলে দেখা হয়ে যেতে পারে একদল বানরের সাথে। তাছাড়া তো টিয়া, বুলবুলি, পানকৌড়ির মতো নানান প্রজাতির পাখি বনের ভেতরে আপনার সঙ্গী হয়ে থাকছেই।
রাতারগুলা ঘুরার পর আমরা হাদারপাড় গিয়ে ২০০০ টাকা দিয়ে পান্থুমাই, লক্ষন ছড়া এবং বিছানাকান্দির জন্য ইঞ্জিন চালিত নৌকা ভাড়া করে ছিলাম। বাংলাদেশ ভারত সীমান্তে অসম্ভব সুন্দর একটি গ্রাম পান্থুমাই। এটি সিলেট জেলার গোয়াইন ঘাঁট উপজেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের একটি গ্রাম। পিছনে মেঘালয় পাহাড় আর বয়ে চলা পিয়াইন নদীর পাড়ে এই গ্রামটি বাংলাদেশের সবচাইতে সুন্দর গ্রাম গুলোর একটি। এই ঝর্নাটি আমাদের কাছে পান্থুমাই ঝর্ণা এবং ভারতে বড়হিল ঝর্ণা নামে পরিচিত ।
পান্তুমাই থেকে পিয়াইন নদী ধরে বিছানাকান্দি যাওয়ার পথে আমাদের ২য় গন্তব্য আরেকটি পাহাড়ি ঝিরি। এর নাম লক্ষণছড়া। এ ঝিরিটিও ভারতের মেঘালয়ের পাহাড় থেকে এসে বাংলাদেশে প্রবাহিত হয়েছে। লক্ষন ছড়া দেখতে হলে পিয়াইন নদী ধরে চলতে চলতে পূর্ব রুস্তমপুর গ্রামে নামতে হবে। সেখান থেকে লক্ষণছড়া প্রায় বিশ মিনিটের হাঁটা পথ।
লক্ষন ছড়া দেখার পরে আমাদের ৩য় এবং শেষ গন্তব্য বিছানাকান্দি। সিলেট ভ্রমনের সিএনজি আর ট্রলার রিজার্ভ করার সময় অবশ্যই ড্রাইভারদের সাথে আনলিমিটেড সময়ের ব্যাপারে কথা বলে নিবেন তা না হলে আপনারা যদি ঘুরতে গিয়ে বেশি সময় নেন তখন তারা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করবে।
আর খাবারের জন্য বেছে নিতে পারেন পানশি অথবা ৫ ভাই রেস্টুরেন্ট কারন সিলেটের এই ২ টি রেস্তোরায় বাজেটের মধ্য ট্র্যাডিশনাল বাংলা খাবার পাওয়া যায় ।
এই ট্যুরে আমাদের খরচের বিস্তারিত
ঢাকা থেকে সিলেট নন এসি বাসের ভাড়া = ৪৭০/-পানশি রেস্তোরায় সকালের নাস্তা = ৪০/-
সারা দিনের জন্য সিএনজি রিজার্ভ = ২০০০/৫ = জনপ্রতি ভাড়া = ৪০০ /-
রাতারগুল সোয়াম ফরেস্টে নৌকা ভাড়া = ৭৫০/৫ = জনপ্রতি ভাড়া = ১৫০/-
পান্থুমাই , লক্ষণ চড়া এবং বিছানাকান্দির জন্য ট্রলার ভাড়া = ২০০০/৫ = জনপ্রতি ভাড়া = ৪০০/-
বিছানাকান্দিতে দুপুরের খাবার = ১৫০ /-
সিলেট ৫ ভাই রেস্তোরায় রাতের খাবার = ১৮০ /-
সিলেট থেকে ঢাকা নন এসি বাসের ভাড়া = ৪৭০ /-
আমাদের এই ট্যুরে সদস্য সংখ্যা ছিলো ৫ জন এবং আমাদের জন প্রতি খরচ হয়েছে ২২৬০ টাকা ।
আমাদের সিলেট ভ্রমণের বিস্তারিত তুলে ধরলাম, আশা করি আপনারা সিলেট ভ্রমণে- খরচের বিস্তারিত ধারনা পেয়েছে, আপনাদের ভ্রমণ আরো সহজ হবে। ধন্যবাদ।
